শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
মার্কিন ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকেই তৎপর হয়ে উঠে তালেবান। এবার আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার দখলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে তালেবান। শুক্রবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শহর দখলের দাবি করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
একের পর এক হামলায় সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ। সবশেষ কাবুল-লাগোয়া প্রদেশ গজনি দখল করেছে জঙ্গিরা। এর আগে, হেরাত শহর দখল করে তারা। এ নিয়ে ৮ দিনে ১২টি শহর দখল করলো জঙ্গিগোষ্ঠীটি।একসময় কান্দাহার তালেবানের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কৌশলগতভাবে শহরটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তাই শহরটির দখল তালেবানের জন্য একটা বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, যুদ্ধ বন্ধের শর্তে তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতারে হওয়া বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়।গজনি প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান নাসির আহমেদ ফাকিরি বলেন, “এখনও কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রয়েছে। তবে গজনি প্রদেশের বেশিরভাগই এখন তালেবানের দখলে”।এই কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় কাতারে আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। সেখানে সংঘাত বন্ধের শর্তে তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছেন গনি সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি।
এর আগে তালেবান রুখতে না পারায়, পদ হারিয়েছে জুনে নিয়োগ পাওয়া সেনা প্রধান জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আমজাদি। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন অর্থমন্ত্রী খালিদ পায়েন্দা।চলতি মাসের শেষ নাগাদ সেনা প্রত্যাহার শেষ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার আগেই আফগানিস্তারে দুই তৃতীয়াংশের নিয়ন্ত্রণ জঙ্গিদের হাতে।আফগানিস্তানে মোট ৩৪টি প্রদেশ রয়েছে। ১০টি প্রাদেশিক রাজধানী দখলে নিয়ে এখন হেলমান্দের লস্কর গাহর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে তালেবান। এরই মধ্যে তাদের হতে চলে গেছে আঞ্চলিক পুলিশ সদরদপ্তর।
তালেবান যে গতিতে একের পর এলাকা দখল করছে, তাতে যেকোনো সময় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, তালেবান ৩০ দিনের মধ্যে কাবুলকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। আর ৯০ দিনের মধ্যে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ঘটতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।